রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি দিতে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ধরা পড়েছেন ইকবাল হাসান রাকিব নামের এক ভুয়া পরীক্ষার্থী। আটকের পর সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তার রক্ষা হয়নি। নিয়মিত মামলার প্রস্তুতির খবর পেয়ে রাতে মূল পরীক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অ’\পরাধে তাকে কা’\রাদ’\ণ্ড ও জরিমানা করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে নগরীর মডেল মসজিদের নিচতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Road Transport Authority) পরীক্ষা কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান (Kazi Md. Shahan)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে ইকবাল হাসান রাকিবের আচরণে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাকিব স্বীকার করেন, তিনি নিজের পরীক্ষা দিতে আসেননি; অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছেন।

বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার পর তাকে আটকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় রাকিব বিআরটিএর অফিস সহায়ক মাসুমা আক্তার (Masuma Akter)-কে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তার এমন আচরণের পর প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।

পরে রাকিবের বিরুদ্ধে এবং যে পরীক্ষার্থীর হয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন, সেই আব্দুল করিম (Abdul Karim)-এর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আব্দুল করিম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার (Pirgachha Upazila) দেউতি নাগদাহ এলাকার বাসিন্দা।

মামলার প্রস্তুতির বিষয়টি জানতে পেরে পরিস্থিতি বদলে যায়। পরে ইকবাল হাসান রাকিব ও মূল পরীক্ষার্থী আব্দুল করিম বিআরটিএ পরীক্ষা কেন্দ্রে ফিরে আসেন। সেখানে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার অ’\পরাধে রাকিবকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে ১০ দিনের কা’\রাদ’\ণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

একই সঙ্গে বিআরটিএর সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অ’\পরাধে রাকিবকে আরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কা’\রাদ’\ণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় মূল পরীক্ষার্থী আব্দুল করিমের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি কেবল একজন ভুয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে আরও কেউ সক্রিয়—সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরও জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাকে ঘিরে এ ধরনের জা’\লিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে রংপুর জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।