ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সে আইআইটি মাদ্রাজ (IIT Madras)-এর পরিচালক ভি কামাকোটিকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াংকা গান্ধী (Priyanka Gandhi)। কামাকোটিকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি জানতে চান, দেশের পরীক্ষা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটিতে তাকে কেন রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ আইনের সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন প্রিয়াংকা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র গঠিত এবং নন্দন নিলেকানি (Nandan Nilekani)-র নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের গঠন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
প্রিয়াংকা বলেন, ওই কমিটিতে সাবেক গোয়েন্দা প্রধান তপন ডেকা, সাবেক ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, সাবেক শিক্ষা সচিব অনিতা কারওয়াল এবং সাবেক বিহার মুখ্যসচিব অমৃত লাল মীনার মতো ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। তাদের পাশাপাশি রয়েছেন ভি কামাকোটি (V. Kamakoti)। ২০২৫ সালে গোমূত্রের কথিত ‘অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল’ ও ‘অ্যান্টিফাঙ্গাল’ গুণাগুণ নিয়ে কামাকোটির মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেন কংগ্রেসের এই সংসদ সদস্য।
একই বক্তব্যে সদ্য নিয়োগ পাওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)-কেও আক্রমণ করেন প্রিয়াংকা। তার অভিযোগ, বিলকিস বানো মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন ব্যক্তিকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের মেয়েদের কাছে এমন সিদ্ধান্ত ভুল বার্তা পৌঁছে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিয়াংকার বক্তব্যের পরপরই সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদের ভেতরে চরিত্রহ’\ননের শামিল। তিনি মন্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি তোলেন।
স্পিকার ওম বিড়লা তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। জবাবে প্রিয়াংকা জানান, তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।
পরে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে প্রিয়াংকার করা মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বিতর্কে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টিও সামনে আনেন প্রিয়াংকা। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ আইন কার্যকর হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীর শাস্তি হয়নি। গত এক দশকে দেশজুড়ে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
