নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জল্পনা, আলোচনার কেন্দ্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে, অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমাকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এরই মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো অলংকারিক পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক পরিসরে তাঁর পরিচিতি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে দলীয় আনুগত্য এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্ষমতাসীন বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বলেও মত রয়েছে।

ড. ইউনূসের পাশাপাশি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং দলের ভেতরে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান এবং অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (Hafiz Uddin Ahmed)-কে স্থায়ীভাবে এই পদে রাখার গুঞ্জনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলটির একটি অংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম এবং রাজপথের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোনো নেতাকেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংবিধান ও দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিচয়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, নাকি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো কাউকে বঙ্গভবনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।