দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন (Anupama Parameswaran) জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনের একটি সম্পর্কে টানা প্রায় দুই বছর মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে জীবনের সেই অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার এক সাক্ষাৎকারে সম্পর্কটির ভেতরে নিজের অভিজ্ঞতা, মানসিক চাপ এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
আই অ্যাম উইথ ধন্য ভার্মা (I Am With Dhanya Varma) অনুষ্ঠানে অনুপমা জানান, ওই সম্পর্কের সময় ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। তবে এত কিছু বললেও কার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, সেই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী।
অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্কটির মধ্যে কোনো স্থিরতা ছিল না। কখনো বিচ্ছেদের কথা উঠত, আবার মাত্র দুদিন পরই সবকিছু ঠিক করে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হতো। এভাবে বারবার ভাঙা-গড়ার মধ্যে চলতে থাকা সম্পর্কটির টানাপোড়েন একসময় তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
অভিনেত্রী জানান, সেই সময় তার প্যানিক অ্যাটাক, উদ্বেগ, ব্ল্যাকআউট, ওজন কমে যাওয়া এবং বমির মতো নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তার ডান চোখ অনবরত কাঁপতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই সমস্যার কারণে শুটিং পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছিল তাকে।
অনুপমার ভাষ্য, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কোনো কথোপকথনের পর তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়তেন যে বমি করে ফেলতেন। ঠিকমতো খাবারও খেতে পারতেন না। সেই সময়ে তার অনেকটা ওজন কমে গিয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার সুযোগ ছিল না। রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদার পরও সকালে উঠে তাকে শুটিংয়ে যেতে হতো।
শুধু মানসিক চাপ বা ওজন কমে যাওয়াই নয়, শারীরিক সমস্যাও আরও বাড়তে থাকে। অনুপমা জানান, একসময় তার চোখের অশ্রুগ্রন্থি ফুলে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সমস্যার কারণে তাকে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়।
এত কষ্টের পরও সম্পর্কটি থেকে কেন সহজে বেরিয়ে আসতে পারেননি—সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন অনুপমা। অভিনেত্রীর মতে, বাইরে থেকে কাউকে একটি সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তব পরিস্থিতি ততটা সরল নয়। তার কাছে পুরো সম্পর্কটি ধীরে ধীরে এমন এক মাকড়সার জালের মতো হয়ে উঠেছিল, যেখান থেকে নিজেকে আলাদা করা সহজ ছিল না।
অনুপমা জানান, সম্পর্কের একপর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যার জন্য উল্টো তাকেই দায়ী করা হতে থাকে। পুরো পরিস্থিতি যেন একটি নির্দিষ্ট ছকের মধ্যেই বারবার ঘুরে ফিরে চলছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ওই ব্যক্তিকে স্পষ্টভাবে জানান, এই সম্পর্ক তার মানসিক শান্তি নষ্ট করছে এবং এভাবে আর সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
এরপর সময়ের সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথাবার্তায় থাকা অসংগতি এবং মিথ্যাগুলোও তার কাছে পরিষ্কার হতে শুরু করে বলে জানান অভিনেত্রী। অনুপমা যখন বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন এবং বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি মুখোমুখি হন, তখন উল্টো তাকেই সম্পর্কের সমস্যার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সম্পর্কের একেবারে শেষ পর্যায়ে এমন একটি ঘটনা ঘটে, যার পর এতদিন ধরে চলে আসা পরিস্থিতির বাস্তবতা তার কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়। অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই ঘটনায় দুই পরিবারের সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েছিলেন।
অভিনেত্রী জানান, ওই ঘটনার পর এতদিনের সম্পর্ককে তার কাছে যেন মুহূর্তের মধ্যেই সম্পূর্ণ অন্যরকম মনে হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় তাকেও কঠোর হতে হয়েছিল। কারণ, অনুপমার দাবি, ওই ব্যক্তি নিজের কোনো কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করতে চাইতেন না।
সাক্ষাৎকারে শেষবার ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন অনুপমা। সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, শেষ ১০ সেকেন্ডে ওই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়েছিল, এতদিন ধরে দেখা একটি ‘মুখোশ’ যেন হঠাৎ খুলে গেছে। তার সামনে তখন যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এদিকে ২০২৫ সালের শুরুতে অনুপমা পরমেশ্বরন ও অভিনেতা ধ্রুব বিক্রম (Dhruv Vikram)-কে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের চুম্বনের একটি অযাচাইকৃত ভিডিও ও কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎকারে অনুপমা যে সম্পর্কের কথা বলেছেন, সেখানে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। ফলে তার দুই বছরের কঠিন সম্পর্কের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ধ্রুব বিক্রমকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো গুঞ্জনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই।


