পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল (Mohammad Iqbal)-এর নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে অভিনয় করছেন আজমেরী হক বাঁধন (Azmeri Haque Badhon)। সিনেমাটিতে একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এর মধ্যেই কুরুচিকর পোস্টের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে হয়রানির শিকার করার অভিযোগ তুলেছেন এই অভিনেত্রী।
বাঁধনের অভিযোগ, মারুফ খান মুন্না (Maruf Khan Munna) নামের একটি ফেসবুক (Facebook) আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে এসব করা হয়েছে।
ঘটনার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই স্ক্রিনশট শেয়ার করে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান এবং ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেওয়া পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, যখন কোনো দল দাবি করে যে তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে সেই দলেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হা’\মলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়—তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টি নিয়েও কড়া অবস্থান জানান বাঁধন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া কেবল হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপ’\রাধ। ফলে ভয় দেখানো, আত’\ঙ্ক তৈরি করা কিংবা তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, সেটি যারা করছেন তাদের জন্যও পরিণতি ডেকে আনতে পারে—এই কথাও মনে করিয়ে দেন অভিনেত্রী।
তবে এসব ঘটনায় তাকে সহজে ভয় দেখানো বা আত’\ঙ্কিত করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাঁধন। তার ভাষায়, তাকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে হলে আরও অনেক দূর যেতে হবে। যারা এসব করছেন, তারা যা ইচ্ছা করতে পারেন—তবে একটি কথা যেন মনে রাখেন।
এরপর নিজের মানসিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির প্রসঙ্গ টেনে বাঁধন বলেন, “আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনো নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি—নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে।”
তাই ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যের শেষদিকে বাঁধন আরও বলেন, “আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখো।”


