কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হ’\ত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিকে গ্রে’\ফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য তিন আসামি হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। তারা সবাই এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে অন্য মামলায় আগে থেকেই ঢাকার সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খান।
এ মামলায় পলাতক অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া।
শুনানিতে প্রসিকিউটর অলি মিয়া বলেন, এ মামলায় গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং সাতজনের নামে গ্রে’\ফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রে’\ফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া বাকি সাত আসামির স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ কারণে ট্রাইব্যুনালে হাজির চারজনকে এ মামলায় গ্রে’\ফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি বাকি সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানান প্রসিকিউটর।
শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামিকে এ মামলায় গ্রে’\ফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নি’\হত হন।
একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তার মৃ’\ত্যুর পর মেয়ের সঙ্গে একরামের একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। কথিত বন্দুকযুদ্ধের সময় ওই অডিওটি রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
