বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) ঢাকায় নতুন একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস।
নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালুর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ ভিসার আবেদন এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রটি কার্যক্রম শুরু করার পর সাধারণ ভিসার আবেদন এবং পাসপোর্ট সংগ্রহসংক্রান্ত সব ধরনের আবেদন কেবল এই ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমেই গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে।
তবে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। কূটনৈতিক নোটের ভিত্তিতে এসব ভিসার আবেদন গ্রহণ, পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং ভিসা ইস্যুর পুরো কার্যক্রম আগের মতোই সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
নতুন কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (Korea Visa Application Center) চালু হচ্ছে বনানী (Banani) এলাকায়। কেন্দ্রটির ঠিকানা— ২ এফ, বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট-৮০, ব্লক-বি, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা (Dhaka)-১২১৩।
দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন এই কেন্দ্রে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুবিধাও রাখা হবে। তবে আবেদনকারীরা কীভাবে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবেন এবং ঠিক কখন থেকে এ সুবিধা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। আগামী ২৭ আগস্ট আলাদা একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
অন্যদিকে নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এসব সেবা আগের নিয়মেই সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস থেকে দেওয়া হবে।
ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট সময়, দৈনন্দিন সেবার সময়সূচি, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণের পদ্ধতি, ভিসা আবেদনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, নির্ধারিত ফি এবং কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরবর্তী সময়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা পেতে আগ্রহী আবেদনকারীদের নতুন আবেদন কেন্দ্রসংক্রান্ত পরবর্তী নির্দেশনা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণাগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। বিশেষ করে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নিয়ম জানতে দূতাবাসের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
দূতাবাসের প্রত্যাশা, সাধারণ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য পৃথক একটি কেন্দ্র চালু করা হলে আবেদনসংক্রান্ত ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভিসা সেবা আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়াও আরও সংগঠিত হবে বলে আশা করছে দূতাবাস।
