যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীদের (স্পাউস) কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা একটি নীতি বাতিল হয়ে যাবে। এর ফলে হাজার হাজার এইচ-৪ ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারাতে পারেন।
এইচ-৪ ওয়ার্ক পারমিটধারীদের একটি বড় অংশ দক্ষিণ এশিয়ার হওয়ায়, নতুন এই পদক্ষেপের প্রভাব দেশটিতে বসবাসরত এ অঞ্চলের পেশাজীবী ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এইচ-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ স্পাউসকে কর্মসংস্থানের জন্য যোগ্য অ-নাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে অনুমোদিত নিয়মটি বাতিল করে দীর্ঘদিনের আগের নীতিতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এটি এখনো একটি প্রস্তাব; এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে এইচ-৪ কাজের অনুমতি বাতিল হচ্ছে না। নিয়মটি কার্যকর করার আগে ডিএইচএসকে ফেডারেল রেজিস্টারে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ দিয়ে চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে হবে।
অর্থাৎ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকা ব্যক্তিরা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এইচ-১বি ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ির ইঙ্গিত
এইচ-৪ স্পাউসদের কাজের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাবকে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব এবং চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য বর্তমানে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস।
সাধারণভাবে এইচ-৪ ভিসা নিজে থেকে কাজের কোনো অধিকার দেয় না। তবে যেসব এইচ-১বি কর্মী গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, তাদের স্পাউসদের জন্য আলাদাভাবে কাজের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে মূলত এই শ্রেণির এইচ-৪ পারমিটধারীরাই নতুন বিধিনিষেধের সবচেয়ে বড় প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।


