লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না বার্সেলোনার। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের ১২ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে কাতালান ক্লাবটি। তবে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ৫–২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
পিছিয়ে পড়ার পর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় বার্সা। ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর ২১ মিনিটে গোল করেন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল বার্সার এই তরুণ উইঙ্গারের প্রথম গোল।
তবে ইয়ামালের গোলটি শুধু ম্যাচে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এই গোলের মাধ্যমে স্পেনে পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে অফিশিয়াল ক্লাব প্রতিযোগিতায় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। এর মধ্য দিয়ে পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক স্ট্রাইকার রাউল গঞ্জালেসকে। ১৯ বছর ২৪৯ দিন বয়সে ৫০তম গোলের দেখা পেয়েছিলেন রাউল। আর অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে ২০ বছর ২২১ দিন বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন ফার্নান্দো তোরেস।
বার্সেলোনার জার্সিতে এত দিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন প্রয়াত সাবেক ফরোয়ার্ড জোসেফ এসকোলা। ১৯৩৫ সালের ২০ অক্টোবর কাতালান আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে বার্সার হয়ে নিজের ৫০তম গোল করেছিলেন এসকোলা। দীর্ঘদিন পর সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন ইয়ামাল।
বার্সেলোনার আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসিও ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ক্লাবটির হয়ে। তবে মেসির ক্ষেত্রে বয়সটি ছিল ২১ বছর ১২০ দিন। চ্যাম্পিয়নস লিগে বাসেলের বিপক্ষে গোল করে ওই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন তিনি।
শুধু স্পেনের ফুটবলেই নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়েও ইয়ামালের এই কীর্তি বিশেষভাবে নজরকাড়া। তার সময়ে বড় তারকাদের মধ্যে এর আগে মাত্র দুজন এত কম বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। তবে বয়সের বিচারে তাদের দুজনকেই ছাড়িয়ে গেছেন বার্সার এই তরুণ তারকা।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। আর আর্লিং হলান্ডের লেগেছিল ২০ বছর ১৯৬ দিন। সেই তুলনায় মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সেই ৫০ গোল পূর্ণ করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন ইয়ামাল।


