কারিগরি ত্রুটিতে বৃটেনজুড়ে ফ্লাইট বিপর্যয়, শত শত উড়ান বিলম্বিত ও বাতিল

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে বৃটেন (Britain)জুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। লন্ডনের হিথ্রো ও গ্যাটউইকসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, বাতিলও হয়েছে অনেক উড়ান। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ (Flightradar24) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই লন্ডনের বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। দুপুর ২টার পর হিথ্রো, গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড ও লন্ডন সিটি বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত অধিকাংশ ফ্লাইট হয় বিলম্বিত হয়েছে, নয়তো নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি।

বিশ্লেষণী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শুধু হিথ্রো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকেই আসা-যাওয়া করা প্রায় ৯০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে ঘিরে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

তবে সংকটের প্রভাব শুধু লন্ডনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বৃটেনের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। ম্যানচেস্টার, এডিনবরো, বার্মিংহাম ও বেলফাস্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও তাদের কার্যক্রমে বিঘ্নের কথা জানিয়েছে।

এয়ারলাইনগুলোর যাত্রীদের ওপরও এর বড় প্রভাব পড়েছে। রায়ানএয়ার (Ryanair) জানিয়েছে, ফ্লাইট বিলম্বের কারণে তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতির মধ্যে এয়ারলাইনটি ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

অন্যদিকে ইজিজেট (easyJet) জানিয়েছে, বৃটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার এই সমস্যার প্রভাব এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নেই; ইউরোপের অন্যান্য দেশের ফ্লাইট চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

ইউরোপীয় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউরোকন্ট্রোল (Eurocontrol) জানিয়েছে, বৃটেনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল—এমন কিছু ফ্লাইটকে বিদেশের বিমানবন্দরগুলোতেই আটকে রাখা হয়েছে। ফলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত নিয়ে বৃটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবা প্রদানকারী ন্যাটস (NATS) মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে জানায়, তাদের ব্যবস্থায় একটি কারিগরি সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। ওই সমস্যার কারণেই ফ্লাইট উড্ডয়ন এবং চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরে ন্যাটস আরও জানায়, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে ত্রুটির কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এক বিবৃতিতে ন্যাটস স্পষ্ট করেছে, ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং বৃটেনের আকাশসীমাও বন্ধ করা হয়নি। অর্থাৎ আকাশসীমা খোলা রয়েছে, তবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সংস্থাটি যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। চলমান ত্রুটির কারণে একের পর এক ফ্লাইটে বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটায় যাত্রীদের অনিশ্চয়তা এবং অপেক্ষা বাড়ছে।

হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হচ্ছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য জানতে নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।