বিশ্বজিতের গরুর মাংস মন্তব্যে সমর্থন, এবার বিতর্কে ‘ঝিলিক’খ্যাত তিথি বসু

প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলে ইতোমধ্যেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তার মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা কটাক্ষ ও সমালোচনা। এরই মধ্যে প্রবীণ অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ‘মা’ ধারাবাহিকখ্যাত ‘ঝিলিক’ চরিত্রের অভিনেত্রী তিথি বসু।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশ্বজিৎ। সেই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের পাশাপাশি গরুর মাংসের প্রতিও নিজের ভালো লাগার কথা জানান তিনি। সাক্ষাৎকারের সেই অংশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনা। নানা মন্তব্য ও কটাক্ষের মুখে পড়েন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা।

বিষয়টি তিথি বসুর নজরে আসার পর বিশ্বজিতের সমর্থনে সরব হন তিনি। ‘ঝিলিক’খ্যাত এই অভিনেত্রীর ভাষ্য, বিশ্বজিৎ কাকু একজন সিনিয়র অভিনেতা, পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও তিনি অসাধারণ। নিজের সততা থেকেই তিনি সত্যি কথাটা বলেছেন।

তিথি বলেন, বাংলাদেশে গিয়ে কে কী খাবেন কিংবা কী খাবেন না, সেটি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিষয়। কারও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এভাবে প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে এখানেই থামেননি তিথি। তার দাবি, সিনেপাড়ার অনেকেই আড়ালে-আবডালে কিংবা প্রকাশ্যেই গরুর মাংস খেয়ে থাকেন। বিষয়টি বোঝাতে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথাও সামনে আনেন তিনি।

তিথির কথায়, তাদের ধারাবাহিকেই এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী ও অভিনেতা ছিলেন, যারা সেটে বসে গরু নিয়ে গল্প করতেন। শুধু তাই নয়, কলকাতার বিভিন্ন নামী জায়গায় যখন গরুর মাংস বিক্রি হতো, তখন সেখানে অনেক হিন্দুকেও যেতে দেখা যেত বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিনেত্রীর আরও বক্তব্য, ২০১০ সাল নাগাদ বহু জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও চ্যানেল কর্মকর্তাকেও তিনি গরুর মাংস খাওয়ার জন্য ছুটে যেতে দেখেছেন।

তিথির ভাষ্য, ‘অনেক মানুষ গরুর মাংস খায়। এটাই বাস্তব। এমনকি মুসলিমদের থেকে হিন্দুরাই বেশি খায়। যারা প্রকাশ্যে বলেন না, তাদের মধ্যেও অনেকেই হয়তো আড়ালে খেয়ে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, কার কী ধর্ম এবং তার খাদ্যাভ্যাস কেমন—এসব একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। নিজের পছন্দ অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তিথির এই বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছে। কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘তুমিও গরুর মাংস খাও! তোমার প্রতি ভালোবাসা কমে গেল।’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘অপরিণত মস্তিষ্কে এই বিষয়ে তোমার কথা না বলাই ভালো।’

আরেকজন কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘আমরা গোমাতার পূজা করি হিন্দুর নামে কলঙ্ক তুমি।’ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘গরুর মাংস খাওয়া ব্যক্তিগত বিষয় হতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে প্রচার করার দরকার কি?’

সব মিলিয়ে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে প্রবীণ অভিনেতার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে এবার নিজেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ‘ঝিলিক’খ্যাত তিথি বসু। তার বক্তব্য ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।