ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের একটি পর্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একসঙ্গে হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তিন নেতার এই মুহূর্তটি ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অনেকেই এটিকে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
চলতি মাসের শুরুতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনেও মোদি, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে এমন ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দেখা গিয়েছিল। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন নানা টানাপোড়েন চলছে, ঠিক সেই সময়ে ব্রিকসের মঞ্চে তিন প্রভাবশালী নেতার একসঙ্গে উপস্থিতি তাই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রায় সাত বছর পর ভারতে সফরে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন তিনি। এর পরের বছর ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গত বছর সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে সেনা সরানোর বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়। এর পর থেকেই ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন কিছুটা কমানোর উদ্যোগ দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফরও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এই সফরে এসেছেন। ব্রিকসের মঞ্চে মোদি, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের একসঙ্গে উপস্থিতি সেই সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিকেও নতুন করে সামনে এনেছে।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইথিওপিয়ার নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনের এই সম্মেলনে অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে সম্মেলনের একটি পর্বে মোদি, পুতিন ও শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাত ধরাধরি করে থাকার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নানা রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও তিন নেতার এই প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা ব্রিকস সম্মেলনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


