‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’—চাঁদকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বলে দাবি করে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাসহ চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চাঁদের ছবিটি পোস্ট করার কয়েক মিনিট আগেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের জন্য নতুন কালো রঙের ইউনিফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি শেয়ার করেন। ইউনিফর্মগুলোর রং তিনি ‘স্পেস গ্রে, মিডনাইট ব্ল্যাক, সিলভার গ্রে এবং স্যাটিন ব্ল্যাক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এসব ইউনিফর্মে কাঁধ ও কলারের ইনসিগনিয়া, হাতায় প্যাচ এবং বেল্ট রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানার দাবি এবং নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ নতুন পোশাকের সঙ্গে ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার ইম্পেরিয়াল সামরিক বাহিনীর তুলনা করেন। আবার একজন প্রশ্ন তোলেন, চাঁদেই কেন থামবেন? মঙ্গল গ্রহের কী হবে? এমনকি আরও ভালো হয়, যদি সূর্যেও চলে যান।
তবে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক অবস্থান রয়েছে ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’-তে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০০টির বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো দেশ সার্বভৌমত্ব, ব্যবহার কিংবা দখলের মাধ্যমে চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর মালিকানা দাবি করতে পারবে না।
একই ধারাবাহিক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেন। গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে তিনি প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সিরিয়াস ছিলেন না।
এরপর নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজও এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেয়। এমনকি তারা একটি ছবি পুনঃপ্রকাশ করে, যেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে তার জায়গায় ‘আমেরিকা’ লেখা হয়েছে।
নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম ফক্স নিউজে ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব দেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনার কোনো বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগে থেকে এটি তাদের। তার অভিযোগ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয় থেকে আমেরিকানদের দৃষ্টি সরাতেই ট্রাম্প এমন প্রস্তাব দিচ্ছেন।
নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের আগেও একটি নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কয়েক দিন আগে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে তিনি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। ২৭ আগস্ট ওভাল অফিস থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি।
লেক অন্টারিও কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি। কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে এর নামের মিল রয়েছে। লেকটির উত্তর-পশ্চিম তীরে অবস্থিত টরন্টো।
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন হুরন-ওয়েন্ডাট ফার্স্ট নেশনের গ্র্যান্ড চিফ পিয়েরে পিকার্ড। তিনি এই উদ্যোগকে ‘জঘন্য ও অকথ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলার’ চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
এর আগে ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউজে ফেরার প্রথম দিনেই ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার ঘোষণা দেন। মেক্সিকো সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। কানাডাও লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এসবের মধ্যেই ট্রাম্পকে সুপারহিরো ‘গ্রিন ল্যান্টার্ন’ রূপে তুলে ধরে এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ। এর পাশাপাশি দুটি ছবিও পোস্ট করা হয়। এর একটিতে এক হাতে উজ্জ্বল সবুজ শক্তির আংটি নিয়ে ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় ট্রাম্পকে।
সূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮


