দিশা সালিয়ানের মৃত্যুতে সিবিআইয়ের এফআইআর, তদন্তের আওতায় আদিত্য ঠাকরে-রিয়া চক্রবর্তীসহ একাধিক নাম

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তার সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যু ঘিরে যে প্রশ্নের সূত্রপাত হয়েছিল, ছয় বছর পর সেই ঘটনায় নতুন করে তদন্তের পরিধি বাড়ল। বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পর দিশার মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এফআইআর দায়ের করেছে। দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের অভিযোগ ও সিবিআইয়ের নথিভুক্ত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এফআইআরে যাদের নাম রয়েছে, তাদের কাউকেই এই পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হয়নি; তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}

দিশা সালিয়ানের মৃত্যু হয়েছিল ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই সুশান্ত সিং রাজপুতকে তার বান্দ্রার ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই সময়ের ব্যবধান থেকেই দুই মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা চলে আসছিল। :contentReference[oaicite:1]{index=1}

সুশান্ত সিং রাজপুত ছিলেন বলিউডের পরিচিত মুখ। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু এবং পরবর্তী তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুর সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছিল অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর নামও। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে তাদের সম্পর্কের সূত্রপাত হয় এবং পরে তারা একসঙ্গে লিভ-ইন করতেন। সুশান্তের মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে, ৮ জুন, রিয়া তার ফ্ল্যাট ছেড়ে বাবা-মায়ের বাড়িতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে সুশান্তের পরিবারের দায়ের করা মামলা এবং মাদকসংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে রিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাস জেলে থাকতে হয়েছিল।

এদিকে দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্তে মুম্বাই পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন, তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর খু’\ন করা হয়েছে। তার অভিযোগ ছিল, ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ আড়াল করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নতুন তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}

এফআইআরে একাধিক পরিচিত নাম

সিবিআইয়ের নথিভুক্ত এফআইআরে আদিত্য ঠাকরে, রোহন রায়, অভিনেতা দিনো মোরিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি, রিয়া চক্রবর্তী, শোয়িক চক্রবর্তীসহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। এছাড়া আদিত্য ঠাকরের নিরাপত্তারক্ষী, সাবেক মুম্বাই পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সচিন ওয়াজে, তৎকালীন ডিসিপি বিশাল ঠাকরেসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর নামও নথিতে এসেছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}

এফআইআরে বলা হয়েছে, দিশার মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযোগ, কথিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, আত্মহত্যার একটি মিথ্যা কাহিনি তৈরি ও প্রচার, এবং তথ্যপ্রমাণ চাপা দেওয়া, নষ্ট করা কিংবা জাল করার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা-সংক্রান্ত নথি বা সরকারি রেকর্ড গোপন কিংবা নষ্ট করা, সরকারি রেকর্ডে পরিবর্তন আনা এবং ক্ষমতা বা সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। :contentReference[oaicite:4]{index=4}

তবে এফআইআরে কোনো ব্যক্তির নাম থাকা মানেই তিনি অপরাধে দোষী—এমন নয়। সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের এই পর্যায়ে কাউকেই আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। :contentReference[oaicite:5]{index=5}

উদ্ধব-আদিত্য ঠাকরের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত

এফআইআরে মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের নামও রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআইকে খতিয়ে দেখতে হবে, দিশার মৃত্যুর পর ঘটনাটি আড়াল করার কোনো প্রচেষ্টা হয়েছিল কি না এবং সেই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগের কোনো ভিত্তি আছে কি না। সরকারি নথি, পুলিশি কাগজপত্র, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ নিয়ে ওঠা অভিযোগও তদন্তের অংশ হবে। :contentReference[oaicite:6]{index=6}

দিশার বাবা যে অভিযোগ করেছেন, তাতে শক্তিশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সিবিআই এখন সেই অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, পুলিশি তদন্তের নথি এবং ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করবে। দিশার আইনজীবীও অভিযোগ করেছেন, তদন্তের সময় কিছু তথ্য ও প্রমাণে কারচুপি করা হয়েছিল। এসব অভিযোগ এখন সিবিআইয়ের তদন্তে যাচাই হওয়ার কথা। :contentReference[oaicite:7]{index=7}

অন্যদিকে, এফআইআরে নাম থাকা আদিত্য ঠাকরে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দিশা সালিয়ানের সঙ্গে তার কখনো দেখা বা পরিচয় হয়নি এবং তাকে এই ঘটনায় জড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুরজ পাঞ্চোলিও জানিয়েছেন, দিশা বা আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং তিনি আগেও তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। :contentReference[oaicite:8]{index=8}

ফলে দিশা সালিয়ানের মৃত্যু এবং সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মধ্যে কোনো বাস্তব যোগসূত্র ছিল কি না, দিশার মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল এবং তার তদন্তে কোনো তথ্যপ্রমাণ গোপন বা বিকৃত করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সিবিআইয়ের তদন্তেই খোঁজা হবে। ছয় বছর আগের সেই ঘটনায় নতুন এফআইআর আপাতত তদন্তকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে; তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ হবে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায়। :contentReference[oaicite:9]{index=9}