কেয়া’\মতের আগে দা’\জ্জাল জান্না’\তের টিকে’\ট বিক্রি ও বিতরণ করবে—এমন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (Islamic Front Bangladesh)-এর চেয়ারম্যান আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পঞ্চদশ শতাব্দীর মোজাদ্দেদ অলীয়ে কামেল আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা সৈয়দ আবেদ শাহ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) প্রতিষ্ঠিত ৬২তম পবিত্র ওরছে নববী (দ.) ও সুন্নী মহাসমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হাদীস শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেন, দা’\জ্জাল এক হাতে জান্না’\ত এবং অন্য হাতে জাহা’\ন্নাম প্রদর্শন করে মানুষকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করবে। যেটি বাহ্যত জান্না’\তের মতো মনে হবে, বাস্তবে সেটিই হবে জাহা’\ন্নামের অগ্নিকুণ্ড। এই ভয়ংকর প্রতারণার মধ্য দিয়েই ঈমানহারা করার চেষ্টা চালানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সমসাময়িক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রসঙ্গে বক্তৃতায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, প্রতারণা ও জু’\লুম ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাঁর ভাষায়, কেউ রাজনীতিকে ধর্মের হাতিয়ার বানাচ্ছে, আবার কেউ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামের মূল আধ্যাত্মিক শক্তি সুফিবাদকে আড়াল করছে। অথচ কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সুন্নিয়ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, কাইয়ূমে জামান, মুজাদ্দিদে জামান, ছানীয়ে ওয়ায়েছ কুরনী, ইমামে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ও কুতুবে জামান হযরত আবেদ শাহ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে বাংলাদেশে আগমন করে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর–কুমিল্লা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ধেররা এলাকায় ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ সুপ্রতিষ্ঠা করেন। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান সুন্নাত ও বায়আতে রাসূল (দ.) গ্রহণ ও প্রদানের ধারাবাহিকতায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে ওরছে নববী (দ.) উদযাপনের সূচনা করেন তিনি, যা আজও বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
শনিবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া ওরছে নববী (দ.) ও সুন্নী মহাসমাবেশে প্রতি বছরের মতো এবারও সভাপতিত্ব ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদী। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ওরছের সঞ্চালনায় ছিলেন মাদরাসায়ে আবেদীয়া মোজাদ্দেদীয়ার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ আলী নকশবন্দী, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের খলিফা মুফতী আবুল হাশেম শাহ মিয়াজী আল আবেদী এবং দরবারের খাদেম মাওলানা মো. আল-আমিন দেওয়ান আল-আবেদী। আলোচনায় অংশ নেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবু সুফিয়ান খান আবেদী আল ক্বাদরী, আল্লামা মোশাররফ হোসেন হেলালী, মুফতী আলাউদ্দিন জিহাদী, মুফতী শহীদুল্লাহ বাহাদুর, মাওলানা মো. মনির হোসাইন মোজাদ্দেদীসহ দেশবরেণ্য অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ।
এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের বড় সাহেবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ আলমগীর শাহ মোজাদ্দেদী ও ছোট সাহেবজাদা সৈয়দ মাহমুদ শাহ মোজাদ্দেদী আগত ভক্তবৃন্দ, মুরিদান-মুহিব্বান এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী খতমে কোরআন, খতমে খাজেগান, খতমে গাউসিয়া, বিকেল থেকে নসীহতমূলক আলোচনা, হযরত আবেদ শাহ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) ও তাঁর সহধর্মিণী হযরত খাজা বেগম উম্মে কুলসুম (রহ.)-এর রওজা শরীফে গিলাফ অর্পণ এবং রাতব্যাপী নসীহতমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফজরের নামাজের পর বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে ওরছের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
মোনাজাতের পূর্বে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের অন্যতম দ্বীনী মারকাজ হযরত খাজা বেগম উম্মে কুলসুম (রহ.) হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ১২ জন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ায় তাদের পাগড়ি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
