সংরক্ষিত নারী আসনে কারা যাচ্ছেন? জামায়াতে ইসলামীতে শুরু প্রাথমিক মনোনয়ন আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় পাওয়ার পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের হিসাব-নিকাশে এখন নতুন করে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে দলটি ১১ থেকে ১২টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন, সেই প্রশ্ন ঘিরে দলীয় অন্দরমহলে চলছে নীরব প্রস্তুতি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পরিবারের সদস্যরা এবং মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেত্রীরা। অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে পারেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)-এর স্ত্রী আমেনা বেগম। তিনি অতীতে সংসদে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় আসছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের (Syed Abdullah Mohammad Taher)-এর স্ত্রী হাবিবা রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রীর নামও সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরছে।

দলের সাংগঠনিক পরিমণ্ডলেও কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সাবেকুন্নাহার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (Daffodil International University)-এর প্রভাষক মারদিয়া মমতাজের নামও আলোচনায় রয়েছে।

নীতিনির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেসব এলাকা থেকে জামায়াত সরাসরি কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পারেনি, সেসব অঞ্চলের যোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নারী নেত্রীদের সংরক্ষিত আসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, শুধু ব্যক্তি পরিচয় নয়—ভৌগোলিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় থাকছে।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতোমধ্যে দলের আমিরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবদান এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই প্রস্তাবিত নামগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জামায়াতের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ২৪ পর্যন্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও আরও বিস্তৃত হবে।

তবে বর্তমান কাঠামো বহাল থাকলে ১১ থেকে ১২টি আসনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা হবে। ফলে দলটির ভেতরে যে আলোচনার সূচনা হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।