গত বছরের ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার সময় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী (Mehazabien Chowdhury)-এর লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ (অ্যালকোহল) পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনাটি তখন প্রকাশ্যে আসেনি, সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অভিযোগ রয়েছে, মদগুলো জব্দ করা হলেও এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সেদিন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, তার স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব (Adnan Al Rajeev) এবং পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমস তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে মোট ১৪ বোতল মদ জব্দ করা হয় বলে সূত্রটি দাবি করেছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ম মেনে কাস্টমস কর্মকর্তারা তল্লাশি চালান এবং উদ্ধার হওয়া পণ্য জব্দ করেন। তবে জব্দের পরও রহস্যজনকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এই প্রশ্নটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ঘটনার সময় বিমানবন্দরের দুই ব্যক্তি মেহজাবীন-রাজীব দম্পতিকে সহযোগিতা করেছিলেন বলেও সূত্রটি জানায়। তবে সেটি কোনো প্রোটোকল সুবিধা বা বিশেষ আচরণ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। বরং সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে ভিড় সামাল দেওয়া বা ছবি তোলার পরিস্থিতি এড়াতে যেভাবে সহায়তা করা হয়, সেভাবেই তারা পাশে ছিলেন। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে ‘প্রোটোকল সুবিধা’ বলা ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের এভাবে মদ বহন বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। জব্দ করা পণ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাধারণত ডিই (DE – Detention Entry) প্রস্তুত করে, যা অবৈধ পণ্য আটকের আনুষ্ঠানিক নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—মেহজাবীন-রাজীব দম্পতির লাগেজ থেকে মদ জব্দের পরও কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। শনিবার রাতে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কাস্টমস বিভাগের যুগ্ম-কমিশনারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
‘আমার মানহানির চেষ্টা চলছে’
এদিকে বিতর্কের মধ্যেই রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন মেহজাবীন চৌধুরী। যদিও সেখানে অ্যালকোহল প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু লেখেননি, তবে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে তাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। এর আগে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করার সময়েই আবার তার মানহানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ছবি ও ভিডিও নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, এমন প্রযুক্তির কারণে তার মতো অনেক শিল্পী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যা কাম্য নয়। বিশেষ করে নারীরাই সহজ টার্গেট হয়ে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে তিনি জানান, তিনি কেবল নিজের কাজে মনোযোগ দিতে চান এবং তার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিতর্কের আবহে তার এই বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে চলমান আলোচনায়।
