পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (Armed Police Battalion – APBN)-এর প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে পদোন্নতি দিয়ে দেশের নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তার এই নিয়োগকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs)-এর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতির পর তাকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
মো. আলী হোসেন ফকির (Md. Ali Hossain Fakir) বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার নিজ জেলা বাগেরহাট। কর্মজীবনে তিনি মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ধাপে ধাপে তিনি পুলিশের শীর্ষপদে পৌঁছালেন।
তবে তার এই পথচলা একেবারেই মসৃণ ছিল না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাকে চড়াই-উতরাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ (Awami League) শাসনামলে প্রথমবার রাজনৈতিক কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে একই সময়ে দ্বিতীয় দফায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। প্রশাসনিক অঙ্গনে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনাও ছিল।
পরবর্তীতে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান। সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন অধ্যায়। পরে সুপার নিউমারিতে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।
গত বছরের ১১ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত আইজিপি (দ্বিতীয় গ্রেড) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সেই পদে দায়িত্ব পালনকালে এপিবিএনের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। অবশেষে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদে তার নিয়োগ নিশ্চিত হলো।
দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক সংগ্রাম, বিতর্ক ও পুনর্বাসনের পর এই নিয়োগ তাই শুধু একটি পদোন্নতি নয়—বরং এক কর্মকর্তার প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
