বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “আমি জানতাম, মন্ত্রী হব না। তবুও সেখানে গিয়েছিলাম। আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না করায় রাগ করে চলে আসছি। এটা সত্য নয়।”
গয়েশ্বর আরও জানান, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের প্রতিনিধি এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন। “আমি নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব। এটাই আমার কাজ।” তিনি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যদিও মন্ত্রী হওয়ার আশা না থাকলেও একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে সামনের সারিতে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে এক কর্মকর্তা না জেনে মন্ত্রী ছাড়া সবাইকে আসন ছেড়ে দিতে বলায় এবং এমনকি না মানলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ডাকার হুমকি থাকায় তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া ও আফতাব আহমেদ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ থানার ওসি এম সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
উল্লেখ্য, ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাগবিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। গয়েশ্বর রায় উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠান ছাড়ার সময় কিছুটা রাগ প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
