দুদকের মামলায় সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট (Ismail Hossain Chowdhury Samrat) কে পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার ছয় নম্বর বিশেষ জজ মো. জাকারিয়া হোসেন এর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই ধারায় মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। বিচারক জানান, একটি ধারার সাজা শেষে অপর ধারার সাজা কার্যকর হবে।

এ মামলায় সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের আইনজীবী নুরে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত। তবে আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ২১ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

গত বছরের ১৭ জুলাই সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সে সময় আসামি উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট এ মামলায় সম্রাট জামিনে মুক্তি পান।