ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের অনিয়ম বন্ধে হটলাইন ও ওয়েবসাইটভিত্তিক অভিযোগ প্রক্রিয়া চালু করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এরই মধ্যে ওয়েবসাইটে ১৬৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং অসংখ্য ফোনকল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী লেখেন, হটলাইন চালুর পর মাত্র পাঁচদিনে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ১৬৭টি অভিযোগ এবং অসংখ্য ফোনকল পেয়েছেন। “এতেই প্রমাণ হয়েছে, আপনারা পরিবর্তন চান”—লেখেন তিনি। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে সমাধান করতে তিনি বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন।
একই পোস্টে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হটলাইনে ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে দ্রুত সমাধানের স্বার্থে ওয়েবসাইটে অভিযোগ করার আহ্বান জানান আবদুল আউয়াল মিন্টু। অভিযোগ জানানোর জন্য ০১৭৩০০-০৪৮৪৪ নম্বরটিও তিনি প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী’র পোস্টে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মামুনুর রশিদ চৌধুরী নামে একজন মন্তব্য করেন, “কয়টা অভিযোগ সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে সমাধান করেছেন মন্ত্রী?” ইশরাত জাহান ইরিনা নামে একজন একটি সংবাদের লিঙ্ক দিয়ে লেখেন, “এখানে প্রমাণসহ অভিযোগ দিলাম, আপনি কি করেন দেখার অপেক্ষায় থাকলাম…”।
অন্যদিকে এমাম হোসেন নামে একজন এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে লেখেন, “পরিবর্তনের এই যাত্রায় আমরাও অংশীদার। সোনাগাজী-দাগনভূঞা অঞ্চলকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার জন্য অভিযোগ জানানোর এই সুযোগটি সত্যিই সময়োপযোগী। আশা করি, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগগুলো পাবলিক করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ব্যবস্থা গ্রহণ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জনগণকে দেখার সুযোগ দেওয়া হোক।
এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখতে হটলাইন নম্বর ও ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শিল্প উদ্যোক্তা ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এমপি পায় দাগনভূঞাবাসী। এমপি হওয়ার পরপরই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান। দীর্ঘ দুই দশক মন্ত্রীশূন্য থাকা ফেনী জেলা তার মাধ্যমে পুনরায় মন্ত্রিত্বের প্রতিনিধিত্ব পায়।
মিন্টুর নির্বাচনী ইশতেহারে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও অনিয়ম রোধ করাই ছিল প্রধান এজেন্ডা।
