ব্রাহ্মণপাড়ায় দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড়, বিএনপির দুই নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় দলিলপ্রতি ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোড়ন। অভিযোগের তীর উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)–এর সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের দিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৌখিকভাবে জানানো হয়—প্রতি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। শুরুতে বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও পরে অভিযুক্ত দুই নেতা সরাসরি অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ব্রাহ্মণপাড়া দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম তাদের সমিতির ক্যাশিয়ারের কাছে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাঁদা হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সমিতির সকল সদস্য বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—পরবর্তীতে এমন দাবি এলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাদের সরাসরি বলা হয়েছে প্রতি দলিল থেকে ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। প্রথমে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরে আমির হোসেন ও নজরুল ইসলাম আবার অফিসে এসে জানতে চান, তাদের নির্দেশনার কী অগ্রগতি হয়েছে। কর্মকর্তারা কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব না দিলেও তাদের শাসিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে অফিসজুড়ে আতঙ্ক ও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

একাধিক দলিল লেখকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এই অফিসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলিল নিবন্ধিত হয়। সে হিসেবে প্রতিটি দলিল থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হলে মাস শেষে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ সম্ভব। তবে মাসিক মোট কত দলিল নিবন্ধিত হয়, সে বিষয়ে অফিসিয়াল কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে এ ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কারণ অতিরিক্ত অর্থের চাপ দলিলগ্রহীতাদের ওপর বর্তাতে পারে, যা সরাসরি জনভোগান্তি বাড়াবে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার দীপঙ্কর সাহা বলেন, দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, বিএনপির দুজন নেতা অফিসে এসেছিলেন। তবে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

অভিযুক্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা-৫ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনের সংসদ সদস্য এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন (Haji Jasim Uddin) বলেন, “চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সঠিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করুন। চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

অভিযোগের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপি (Brahmanpara Upazila BNP)–এর অভ্যন্তরেও চাপা আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। আর পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।