‘নিমন্ত্রণ’ কি রাজনীতিতেও? আ’\ওয়া’\মী লীগ ফেরার আভাসে বিএনপি তৃণমূলে নতুন আতঙ্ক

‘তুমি যাবে ভাই-যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়/গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি…’—পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (Jasimuddin)-এর ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতার এই পঙ্‌ক্তির মতোই যেন দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার এক অদৃশ্য আমন্ত্রণ ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞায় থাকা আ’\ওয়া’\মী লীগকে। আর সেই আভাসেই এনসিপি, জামায়াত তো বটেই—সাধারণ মানুষ এবং বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সঞ্চার হয়েছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে বিপর্যস্ত জীবনযাপন করা বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষমতায় আসার এক মাস না যেতেই আ’\ওয়া’\মী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতে ভীত-সন্ত্রস্ত্র। তাদের আশঙ্কা, হিংস্র রাজনীতিতে অভ্যস্ত আ’\ওয়া’\মী লীগ নেতারা জামিনে মুক্ত হয়ে সংগঠিত হলে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে।

বরিশালে আ’\ওয়া’\মী লীগের চিহ্নিত নেতাদের জামিন ঘিরে আদালতে এজলাস ভাঙচুর ও বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে আটকের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন আদালতে বিগত সরকারের অনুসারী বিচারকদের সিদ্ধান্তেই এমন জামিন সম্ভব হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নূরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, আ’\ওয়া’\মী লীগ ফিরে এলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি। তার ভাষায়, ভারত নয়—জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। দিল্লির প্রভাব থাকলে জুলাই অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে আগের সরকারই টিকে থাকত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই অভ্যুত্থানের পর হ’\ত্যাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত আ’\ওয়া’\মী লীগ নেতাদের জামিনের হার বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (Selina Hayat Ivy) পাঁচ মামলায় জামিন পেয়েছেন। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিও জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ‘আ’\ওয়া’\মী লীগ ফিরে আসছে’—এমন প্রচারণা সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো হয়েছে। একদল ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতা দলটির পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয়। ভারতে অবস্থানরত কিছু নেতা দেশে ফেরার হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশালের প্রসঙ্গে সাবেক আ’\ওয়া’\মী লীগ নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (Abul Hasanat Abdullah)-র নামও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের মতে, তার দীর্ঘ শাসনামলে বরিশালে কার্যত একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেও ভয় পেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘রিফাইন আ’\ওয়া’\মী লীগ’ পুনর্গঠনের নানা উদ্যোগের কথাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়েছে। শিরিন শারমীন চৌধুরী, সাবের হোসেন চৌধুরী ও সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ কয়েকজন নেতাকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে জনমতের চাপে তা ব্যর্থ হয়।

নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বন্ধ থাকা আ’\ওয়া’\মী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনাও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতেও দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও সেøাগান দেওয়ার খবর মিলেছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নি’\হতদের বিচার আগে নিশ্চিত করতে হবে। পুরো পুলিশ বাহিনী নয়, অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে রাজপথে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

ড. নূরুল আমিন ব্যাপারীর মতে, আ’\ওয়া’\মী লীগ ফিরে এলে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তার ভাষায়, জনগণের ক্ষমতাই শেষ কথা—কোনো বিদেশি শক্তি নয়।