পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতি দাবি

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে শুক্রবার সারাদিন জোরালো উত্তেজনা বিরাজ করেছে। আফগানিস্তানের খোস্ত, ট্যাঙ্ক, কান্দাহার ও পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানি সামরিক পোস্টগুলোতে আফগান বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ চালানোর খবর নিশ্চিত করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত, ২৭ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ। এছাড়া পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগান তালেবানদের ২৭৪ জন নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসারে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

আফগানিস্তান দাবি করেছে, পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আফগান ভূখণ্ডে চাপিয়ে দিচ্ছে। আফগান তালেবান মুখপাত্র বলেন, “আমরা কেবল আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করেছি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই।” পাশাপাশি, আফগান সরকারি স্থাপনা ও সীমান্ত চৌকিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। চীন দুই দেশের প্রতি সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনা করেছেন। পাকিস্তানের ধর্ম ভিত্তিক দল জামিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (এফ)-এর প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান নিরাপত্তা দাবির বৈধতা স্বীকার করে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, খোস্ত, পাকতিয়া ও পাক্তিকায় সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি, তবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাঝে মাঝে কামানের গোলা বিনিময় হচ্ছে। তোরখাম সীমান্তের শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা আশঙ্কায় স্থানান্তর ও প্রতিদিন শতাধিক পরিবার আফগানিস্তান ফেরত যাচ্ছেন। আফগান বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনা উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে, এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।