নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শ্রমিকদের টানা পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ শেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও এর মধ্যে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী থেকে পথচারীরা। সড়কে আটকা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও। অবরোধ সরাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আ’\হত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের মৈকুলি এলাকায় অবস্থিত বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড (B Brothers Company Limited) নামের একটি পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। তারা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, মালিকপক্ষ ‘দেশ দিচ্ছি’ বলে কয়েকদিন ধরে তাদের ঘুরিয়ে রাখছেন। যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের আটকে রেখে নির্যাতন ও ছাঁটাই করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, বাকি শ্রমিকদের কারখানা কর্তৃপক্ষ ভেতরেই আটকে রাখেন। এতে ভেতর ও বাইরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাইরে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকরা একপর্যায়ে বিক্ষোভ জোরদার করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে উভয় পাশে সব ধরনের যানবাহন আটকে পড়ে। পরে বিক্ষোভের মুখে মালিকপক্ষ কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানার মালিক নুরুল হক মোহন বিগত আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের আমলে সংসদ সদস্য ছিলেন। সে সময় শ্রমিকদের নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তার দাবি। বর্তমানে কারখানার জিএম শরীফ আহমেদ ও এজিএম নুর ইসলাম হাদীর বিরুদ্ধেও শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
রূপগঞ্জ থানা (Rupganj Police Station)-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সবজেল হোসেন জানান, দুপুরে একদল পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জের একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়কে আটকে থাকা বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করেন। কারখানায়ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় শ্রমিক, পুলিশ, পথচারী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আ’\হত হন। সড়কে আটকা পড়া চালক-যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে সংঘর্ষের সময় ছোটাছুটি করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আ’\হত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ-১ (Narayanganj-1) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। রোববার ডিসেম্বর মাসের এবং বুধবার জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান।

