বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) বলেছেন, নির্বাচনে তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির দাবি করেন, ১০ থেকে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে যেসব প্রার্থীকে হারানো হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। “দুয়েক জায়গায় ঘোষণা দিয়েও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। যেখানেই যাচ্ছি, মানুষ আমাদের বলে—আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
দলটির ইতিহাসে সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে তাদের তিনটি লাভ হয়েছে। “প্রথমত, এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছি, এবার আমাদের নেতৃত্বে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই প্রথম আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো—আমরা এবার ৬টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সবাই জানেন। এই ছয় শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু, তা আমরা বুঝে গেছি।”
তিনি আরও বলেন, এই ছয় শক্তি তাদের সঙ্গে পেরে উঠত না, যদি ‘অন্যকিছুর আশ্রয়’ না নিত। “এই অন্যকিছুর কথা এখন শুধু আমরা বলছি না, টিআইবি (Transparency International Bangladesh) বলেছে, সুজন (Sushashoner Jonno Nagorik) বলছে, আরও অনেকে বলতে শুরু করেছে।” তার মতে, এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আবারও লড়তে হবে এবং এখন থেকেই কৌশল নির্ধারণ জরুরি।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোতে গিয়ে বড় বড় ওয়াদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে টাকা, ওয়াদা, সন্ত্রাস—কিছুই কাজ করেনি, ফলাফলে তা দেখা গেছে। “এসবের মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশে—আগামীর বাংলাদেশ ইসলামীর বাংলাদেশ হবে, মুক্তিপাগল মানুষের বাংলাদেশ হবে। আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না।”
দলীয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন খালি না থাকে।” যারা নির্বাচনে জীবন বাজি রেখে দলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, সমাজের সেসব জায়গা থেকে ভালো মানুষদের বের করে স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে আনার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে নেতা-কর্মীদের আরও বিবেচনাশীল ও আত্মত্যাগী হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
