“বাবা বলেছিলেন এবার ঈদের আগে বাড়ি ফিরবেন। সবার জন্য একসাথে শপিং করবেন। কাল পর্যন্ত ভিডিও কলে কত কথা হলো! আমি কীভাবে বিশ্বাস করব যে আমার বাবা আর নেই? গত কয়েকদিন টিভিতে যুদ্ধের খবর দেখতাম, আজ সেই যুদ্ধই আমার বাবাকে কেড়ে নিল।”
ফোঁপাতে ফোঁপাতে কথাগুলো বলছিল বাহরাইন (Bahrain)-এ ড্রোন হামলায় নি’\হত প্রবাসী বাংলাদেশি মো. তারেকের (৪৮) একমাত্র সন্তান তাসমিম তামান্না। ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরীর সাজানো পৃথিবীটা এক নিমেষেই তছনছ হয়ে গেছে সুদূর প্রবাসের এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে।
গত সোমবার (২ মার্চ) বাহরাইনের আল হিদ ড্রাইডক এলাকায় অবস্থিত আরব শিপবিল্ডিং অ্যান্ড রিপেয়ার ইয়ার্ড (Arab Shipbuilding and Repair Yard)-এ ডিউটি অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান সন্দ্বীপ (Sandwip)-এর সন্তান মো. তারেক। কর্মস্থলেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নি’\হত তারেকের স্বজনরা জানান, তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। সাধারণত ১৮ থেকে ১৯ মাস পরপর দেশে ফিরতেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাড়ি এসেছিলেন। এবার হজ্জের কারণে ছুটি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও একমাত্র মেয়ে তামান্নাকে কথা দিয়েছিলেন—এবারের ঈদে সশরীরে পাশে থাকবেন, একসাথে বাজার করবেন। কিন্তু প্রতীক্ষিত সেই ঈদ আর এল না; এল কেবল শোক আর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুসংবাদ।
নি’\হতের মামাতো ভাই, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল (Chattogram Maa-O-Shishu Hospital)-এর উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, তারেক ছিলেন পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। তার পৃথিবী ছিল স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে ঘিরে। সন্তানের লেখাপড়ার সুবিধার্থে পরিবার নিয়ে থাকতেন চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন পুরো পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
মো. তারেক সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়েরগো বাড়ির মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে। স্বজনদের একটাই দাবি—সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে, যাতে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে পারে পরিবার।


