ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হ’\ত্যা প্রসঙ্গে নতুন বিবৃতি, সমালোচনার মুখে সরকারের অবস্থান

ইরানে হামলা-পালটাহামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়ে রোববার বিবৃতি দেয় সরকার। তবে সেই বিবৃতিতে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ থাকলেও ইরানকে রাখা হয়নি। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।

শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হ’\ত্যা হয়েছেন বলে জানানো হয়। তার কন্যা, জামাতা ও নাতনিও প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে। তালিকায় ছিল বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ইরানের নাম না থাকায় সামাজিক ও কূটনৈতিক পরিসরে প্রশ্ন ওঠে।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের ওপর এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানায়। রোববারই ঢাকায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিরা পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন করে বিবৃতি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হ’\ত্যা করার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক প্রকাশ করা হয়।

এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নাগরিকরা আক্রান্ত হলে, সেটা যেখানে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের সবচেয়ে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে জনগণ। আমরা আশা করি, এই সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না কিংবা কেউ আ’\হত হবেন না। তবে এমন পরিস্থিতি হলে সরকার প্রয়োজনীয় সব কর্তব্য পালন করবে।

তিনি জানান, কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। তারা নিজ নিজ দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।

যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নি’\হত হয়েছেন, তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “অবশ্যই। আমরা সবসময় নিয়ে আসি, এটা আমাদের নীতি। তবে এখন বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশিদের কেউ দেশে ফিরতে চাইলে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রয়োজন হলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিদেশগামী ও সেসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা, হোটেলে অবস্থানের সুযোগ এবং ভিসার মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব যাত্রী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বা জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা যেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং দুর্ভোগে না পড়েন—সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সরাসরি কাজ করছে।