ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma) বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী ভারত। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত, ফলপ্রসূ ও গতিশীল করতে চায় নয়াদিল্লি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকটি ছিল আনুষ্ঠানিক, তবে আলোচনার পরিসর ছিল ভবিষ্যতমুখী সহযোগিতার নানা ক্ষেত্রকে ঘিরে।
হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের বন্ধুত্বকে ভিত্তি করে আগামীর কৌশলগত সমন্বয় গড়ে তোলার কথাও উঠে আসে আলোচনায়।
তিনি জানান, উন্নয়ন সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন খাতে জনমুখী উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার কাঠামোর আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায় ভারত। এ ধরনের সহযোগিতা মাঠপর্যায়ে সেবা প্রদানের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এসব ক্ষেত্রে ভারতের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আশা, এই সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
