মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার

ইরানের সম্ভাব্য যেকোনো হামলা মোকাবিলা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি মন্ত্রিসভা মিত্র দেশগুলোর ওপর আঘাত প্রতিহত করতে নিজেদের সর্বাত্মক সক্ষমতা নিয়োগের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।

রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুইটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় দূতাবাসের ছাদের অংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে চালানো বিভিন্ন হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮১ জন ১০ বছরের কম বয়সী শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে সামরিক ঘাঁটি, চিকিৎসা কেন্দ্র ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে অন্তত ১০৪টি হামলা হয়েছে।

কুয়েতে একটি আবাসিক এলাকায় আকাশ থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ায় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে, এবং পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। লেবাননে হিজবুল্লাহ অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হয়েছে, এবং নতুন করে এক ডজনের বেশি গ্রাম খালি করার নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র অভিচাই আদ্রায়ি বলেছেন, হিজবুল্লাহর সদস্যদের কাছে থাকা মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া।

কাতারেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে; দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত দুই গোয়েন্দা সেল গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন ড্রোন ব্যবহার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষিত ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারে তিন দিন ধরে ধস নেমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৭% এবং জাপানের নিক্কেই ৩% হ্রাস পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল থমকে থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১.২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বিবিসি-কে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার যৌক্তিকতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, যদি কোনো আসন্ন হুমকি থাকে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক মহল মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কা করছে।