অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল (Dr. Asif Nazrul) নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দু’\র্নী’\তি ও গুজবের অভিযোগের জবাবে বলেছেন, তিনি সরকারে থাকা অবস্থায় এক টাকাও দুর্নীতি করেননি এবং কাউকেও তা করতে দেননি। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি ‘আসিফ নজরুলের দু’\র্নী’\তি?’ শিরোনামে একটি পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমেরিকায় বাড়ি কিনেছি’ বা ‘পরিবার আমেরিকায় চলে গেছে’—এ ধরনের গুজব বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছড়ানো হয়েছিল। বিপুলসংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং কিছু মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদ মুহিউদ্দিনের অনুষ্ঠানে তিনি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, কেউ প্রমাণ দিতে না পারলে ওই মিথ্যাচার বিশ্বাসযোগ্য নয়।
প্রায় আট মাসের পরেও কেউ তার বিদেশী সম্পত্তির প্রমাণ দিতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট করেন, আমেরিকা কিংবা পৃথিবীর কোনো দেশেই তার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর তার (এবং কিছু সহকর্মীর) বিরুদ্ধে নতুন নতুন দু’\র্নী’\তি সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব খবর অনেক সময় অনলাইনে শুরু হয়ে, পরে কপি-পোস্ট হয়ে কুখ্যাত সংবাদমাধ্যমে পৌঁছে যায়, যারা সরকারি সময়ের সময়ে আনন্দে ছিল না। তবে তিনি জানান, অনেক সহকর্মী এসব পাত্তাই দিতে চায় না এবং তিনি নিজেও চায় না। তবে যারা তাকে ভালোবাসেন এবং দোয়া করেন, তাদের জন্য তিনি স্পষ্ট বক্তব্য রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
-
**দু’\র্নী’\তি করেছেন না সরকারে থাকা বা এর আগে-পরে জীবনে তিনি এক টাকাও দু’\র্নী’\তি করেননি। নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেননি, নতুন সম্পদ অর্জন করেননি, আয়কর সময়ে কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখেননি।
-
স্বজনপ্রীতি করেননি: পরিবার বা আত্মীয়কে কোনো সুবিধা দেননি, বিন্দুমাত্র অনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেননি। প্রায় ৫ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সময় কোনো আত্মীয়কে সুযোগ পাননি।
-
এলাকাপ্রীতি করেননি: উপদেষ্টা থাকাকালে নিজের গ্রামের বাড়ি বা ঢাকায় বেড়ে ওঠা এলাকায় কখনো প্রভাব প্রয়োগ করেননি। একমাত্র লালবাগ শাহী মসজিদ ও ঢাবি খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য আইন ও নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা দিয়েছেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার তিনি সহ্য করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চুরি বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য জন্ম নেননি, আল্লাহ তাকে এইভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, শেষ পর্যন্ত তার কোনো ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। তিনি শেষ করেন, “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।”
