ইকরা মৃ’ত্যু বিতর্কে নতুন মোড়, ৪৪ স্ক্রিনশট প্রকাশ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা তিথির

ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী (Zaheer Alvi)-এর স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরা মৃ’ত্যুর পর থেকে বিনোদন অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে পুরো ঘটনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরার মৃ’ত্যুর পর তার বিচার দাবিতে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (Bangladesh Film Development Corporation – BFDC)-এর গেটের সামনে ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ নামের একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিনেতা জাহের আলভী এবং তার সহকর্মী ইফফাত আরা তিথি (Iffat Ara Tithi)-কে বয়কটের আহ্বান জানান। ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এদিকে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন ইফফাত আরা তিথি। সেখানে তিনি ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনের ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন।

ইকরার পরিবার দাবি করেছে, আলভীর সঙ্গে তিথির সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এই ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানা (Pallabi Police Station)-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার আগে নাটকের শুটিংয়ের কাজে আলভী ও তিথি নেপালে গিয়েছিলেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল তিথির জন্মদিন। সেই সময় থেকেই বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে—তিথির জন্মদিন উদ্‌যাপনের উদ্দেশ্যেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহের আলভী।

পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মৃ’ত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

ফেসবুক পোস্টে তিথি বলেন, তিনি প্রথমে এসব ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ করতে চাননি। তার ভাষায়, ‘ভেবেছিলাম এইগুলা পাবলিকলি দিব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দিব, সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে হ্যারাস করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেল না। অলরেডি কিছু জায়গায় অডিও স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি। আর যারা নিজেরা খুব সাধু সাজছেন, আপনারা কী, সেটার আমলনামাও আছে।’

দীর্ঘ ওই পোস্টে তিথি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ‘ভুল ব্যাখ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’। তার দাবি, ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল।

তিনি বলেন, পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও ডিপ্রেশনের বিষয়েও ইকরা মাঝে মাঝে তার সঙ্গে কথা বলতেন। স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিথি দাবি করেন, ইকরার সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না।

তিথির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বরং ইকরাকে কাজের মধ্যে সক্রিয় থাকতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিতেন। তিনি লেখেন, ‘আমি কখনো বলিনি তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করব। বরং বলেছি, তুমি তার কুইন।’

ইকরাকে আত্মহ’ত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিথি। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিলো না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে ও আমেরিকা চলে যাবে, আমার রিপ্লাই বরাবরই ছিলো—“এহ, বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না, তুমি তাকে ভালোবাসো। তুমি রানি, তুমি তার রানি।” তাহলে আত্মহ’ত্যার জন্য উস্কানি আমি কেমন করে দিব? আর যাই বলেন, এইটা বলতে পারেন না যে ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি।’

পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিথি। তার দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা তাকে জানিয়েছিলেন।

তিথি লেখেন, ‘একটা মেয়ে যত যা–ই হোক নিজের বাবা–মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি ওনাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে ওর পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিলো। ওর ফিল হতো যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ইকরা একবার ২০১৮ সালে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তার বাবাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তখন পরিবার থেকে সে ধরনের সহায়তা পাননি। সেই ঘটনার পর থেকে তার মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিথি।

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে তিথি বলেন, যদি তার সঙ্গে কোনো অঘটন ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে। একই সঙ্গে ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

তিথি লেখেন, ‘আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক। শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিককে এত দোয়া করুক, যাতে রিযিকের জীবনটা সুন্দর হয়।’