দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আবার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ধাপে ধাপে এসব পাটকল পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম (Shariful Alam)।
বৃহস্পতিবার জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় (Ministry of Textiles and Jute) আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বন্ধ থাকা সাতটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বন্ধ মিলগুলোও একই ব্যবস্থাপনায় পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া মিলগুলোর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭ হাজার ২০০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এই উদ্যোগ দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস (National Jute Day) পালিত হবে। এবারের দিবসের উদ্বোধন অনলাইনের মাধ্যমে করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (Mohammed Shahabuddin)।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (Bangladesh Shilpakala Academy) প্রাঙ্গণে ৬ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
পাট ও পাটপণ্য নিয়ে আগ্রহী ক্রেতা, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনসহ সবাইকে এই মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও সম্ভাবনা তুলে ধরতেই এই আয়োজন।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কেও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করা। সেই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। সেই লক্ষ্যেই অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শিল্পখাতে গতি আনতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (Bangladesh Jute Mills Corporation) বা বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন পাটকলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে পরিচালনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাটশিল্পে নতুন গতি ফিরে আসবে এবং একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
