ইকরা ইস্যুতে উত্তাল এফডিসি: ৪৪ স্ক্রিনশট প্রকাশ করে নিজের অবস্থান জানালেন তিথি

ইকরা মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের মধ্যেই রাজধানীর বিএফডিসি গেটের সামনে গতকাল ‘জাস্টিস ফর ইকরা’ ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জাহের আলভী ও ইফফাত আরা তিথি (Iffat Ara Tithi)-কে বয়কটের দাবি তোলেন। ঘটনার এই তীব্র সমালোচনার মুখেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন তিথি।

ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ইকরার সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত আলাপচারিতার মোট ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এসব কথোপকথন প্রমাণ করে যে ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কোনো ষড়যন্ত্র বা বিরোধের ইঙ্গিত নেই।

এদিকে ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জাহের আলভী (Zaheer Alvi)-র সঙ্গে তিথির পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই ইকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের দাবি, সেই তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহনের পথ বেছে নেন। এই ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান (Kabir Hayat Khan) ইতোমধ্যে পল্লবী থানা (Pallabi Police Station)-য় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বিতর্ককে আরও উসকে দেয় সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। জানা যায়, সম্প্রতি একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপাল (Nepal)-এ একসঙ্গে গিয়েছিলেন আলভী ও তিথি। সেখানে তিথির জন্মদিন উদযাপনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি নেপাল থেকে ফেরার দিনই ইকরার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন তিথি। তিনি লিখেছেন, শুরুতে ভেবেছিলেন প্রয়োজন হলে প্রশাসনের কাছে এসব প্রমাণ তুলে ধরবেন এবং সবার সম্মানের কথা ভেবে প্রকাশ্যে কিছু বলবেন না। কিন্তু তাকে ঘিরে যেভাবে অপপ্রচার ও হয়রানি চলছে, তাতে নীরব থাকা আর সম্ভব হয়নি।

তিথি যে ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন, সেখানে দেখা যায় ইকরা নিজের পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও ডিপ্রেশন নিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করতেন। তিথির দাবি, এসব কথোপকথনে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি বরং ইকরাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং তাকে নিজের জীবনে শক্তভাবে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইকরার সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না। একটি চ্যাটের প্রসঙ্গ টেনে তিথি লিখেছেন, “আমি কখনো বলিনি তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করব। বরং বলেছি, তুমি তার কুইন বা রানি।” আত্মহননে প্ররোচনার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য আমি কেমন করে উস্কানি দিব? আমি তো তাকে সবসময় আগলে রাখার পরামর্শ দিয়েছি।”

তিথির পোস্টে ইকরার পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের দূরত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তার দাবি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ইকরা তার বাবার কাছে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু পরিবার থেকে তেমন সমর্থন পাননি। এই বিষয়টি ইকরার মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিথি। তার ভাষায়, “একটা মেয়ে যত যা-ই হোক নিজের বাবা-মাকে নিয়ে মিথ্যা বলবে না। ওর মনে ওর পরিবার নিয়েও অনেক কষ্ট ছিল। ও ফিল করত যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে।”

পোস্টের শেষাংশে তিথি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি একটি অনুরোধও জানান। তিনি বলেন, যদি তার নিজের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয় এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়।