মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক রাজনীতির অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ইউটিউব চ্যানেল “Predictive History”–এর সঞ্চালক চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় শিক্ষাবিদ জিয়াং জুয়েকিন (Jueqin Jiang)। তার কিছু পূর্বাভাস আংশিকভাবে বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যাওয়ার দাবি উঠতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
একই সময়ে ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা (Baba Vanga)–র পুরোনো কিছু ভবিষ্যদ্বাণীও আবার সামনে আসছে, যা নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে একটি অনলাইন লেকচারে জিয়াং জুয়েকিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পূর্বাভাস তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্ভাব্য কিছু গতিপথ বিশ্লেষণ করেন।
তার প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী ছিল—সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরতে পারেন। দ্বিতীয় পূর্বাভাসে তিনি বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এই দুটি বক্তব্য আংশিকভাবে বাস্তবতার সঙ্গে মিলেছে বলে দাবি করে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তাকে “চীনা জ্যোতিষী” হিসেবেও আখ্যা দিতে শুরু করেছেন। যদিও জিয়াং নিজেকে জ্যোতিষী নয়, বরং ইতিহাস বিশ্লেষক বলেই পরিচয় দেন।
তবে তার তৃতীয় পূর্বাভাসটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জিয়াংয়ের মতে, সম্ভাব্য সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে কৌশলগত দিক থেকে শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
কে এই জিয়াং জুয়েকিন
জিয়াং বর্তমানে বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস বিষয়ে পড়ান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি (Yale University)–এর সঙ্গে যুক্ত একটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
তার ইউটিউব প্রকল্প “Predictive History” মূলত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ভূরাজনৈতিক প্রণোদনা এবং গেম থিওরির আলোকে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করার একটি প্রচেষ্টা। সেখানে তিনি ইতিহাসের ধারা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তার এই বিশ্লেষণ পদ্ধতির অনুপ্রেরণা অনেকাংশেই এসেছে বিজ্ঞান কল্পকাহিনীকার আইজ্যাক আসিমভ (Isaac Asimov)–এর বিখ্যাত উপন্যাস Foundation–এ বর্ণিত কাল্পনিক ধারণা ‘সাইকোহিস্ট্রি’ থেকে।
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নতুন আলোচনা
অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুলগেরিয়ার অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সাল সম্পর্কিত কিছু পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী আবারও আলোচনায় এসেছে।
“বালকানের নস্ত্রাদামুস” নামে পরিচিত এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, তিনি অতীতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য Princess Diana–এর মৃত্যুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
২০২৬ নিয়ে যেসব আশঙ্কা
বিভিন্ন ব্যাখ্যা অনুযায়ী বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দিকে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তার কথিত পূর্বাভাস অনুযায়ী—
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে, যা ধীরে ধীরে একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, চীন তাইওয়ানকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা বাড়তে পারে।
কিছু ব্যাখ্যায় আরও দাবি করা হয়, সে সময় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। শেয়ারবাজারে বড় ধস, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আর্থিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
এই কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর আরেক অংশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প, সুনামি, টর্নেডো এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্পক্ষেত্রে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি
তবে এসবের মধ্যেও সবচেয়ে বিতর্কিত দাবি হলো—২০২৬ সালের নভেম্বরে মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর প্রথম যোগাযোগ ঘটতে পারে।
কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সে সময় একটি বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে, যা মানব ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে।
তবে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। অধিকাংশ গবেষকের মতে, এই ধরনের দাবি সাধারণত যাচাইযোগ্য প্রমাণের বাইরে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো পরবর্তী সময়ে মানুষের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে জনপ্রিয়তা পায়।


