ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হা’\দী হ’\ত্যা মামলার প্রধান দুই অভিযুক্তকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রে’\প্তা’\র করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। রোববার ভোরে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হা’\দীকে হ’\ত্যা করে ভারতে পালিয়ে আসে। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
পরে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা শেষ পর্যন্ত বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময়ই তাদের গতিবিধি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)।
এসটিএফ সূত্র বলছে, এই দুই বাংলাদেশি নাগরিক চাঁদাবাজি, হ’\ত্যাসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার পর ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে—এমন ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য তাদের কাছে ছিল। একই সঙ্গে তারা সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ (Bangaon) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় এসটিএফ। অভিযানের সময় ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রে’\প্তা’\র করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোববার আদালতে হাজির করার পর আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা দুবৃর্ত্তরা রাজধানীর পল্টন (Paltan) এলাকায় ওসমান হা’\দীকে লক্ষ্য করে গু’\লি চালায়। গু’\লি’\বি’\দ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদকে অন্যতম হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে তাকে গ্রে’\প্তা’\রের জন্য তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার (Government of Bangladesh)।
এর আগে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড (Apple Soft IT Limited) এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কোনো আর্থিক যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে এবং সম্ভাব্য অর্থ স্থানান্তর বা গোপনের বিষয়টি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ওসমান হা’\দী হ’\ত্যা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের (Abdullah Al Jaber) থানায় মামলা দায়ের করেন।
