কুমিল্লার কুমিল্লা (Cumilla) জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা (Brahmanpara Upazila) এলাকায় বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ব্রাহ্মণপাড়া কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (বিআরডিবি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আবদুস সামাদের বাড়ি নির্মাণকাজ চলাকালে ব্রাহ্মণপাড়া কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আবদুস সামাদের বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া ঘাট (Daulatdia Ghat) ও পাটুরিয়া ঘাট (Paturia Ghat) নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৫টা ১০ মিনিট থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দুই ঘাটেই যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ ছোট ছোট যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (Bangladesh Inland Water Transport Corporation) সূত্রে জানা যায়, কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় নৌপথের চ্যানেল মার্কিং পয়েন্টগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ফলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বিবেচনায় ফেরি চলাচল আবার শুরু করা হবে। বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে চারটি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে।
এদিকে সিলেটের বিশ্বনাথে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আনরপুর ও দশপাইকা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে দুই গ্রামের শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেই ঘটনার জের ধরে রবিবার রাতে দশপাইকা বাজার এলাকায় দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ (Chapainawabganj) শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় ড্রেন নির্মাণের জন্য খননকাজ চলাকালে দেয়াল ধসে পড়ে নাইরুল ইসলাম (২৪) নামে এক শ্রমিক নি’\হত হয়েছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোর্টপাড়া মহল্লায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ৯ থেকে ১০ জন শ্রমিক গভীর খননকাজ করছিলেন। হঠাৎ পাশের একটি বাড়ির পাকা সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে এবং সেটি সরাসরি নাইরুল ইসলামের মাথার ওপর গিয়ে পড়ে।
নাইরুল ইসলাম সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরুনবাড়ি বেহুলা মহল্লার মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, তার ঘরে মাত্র ১৬ দিন বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের সড়কের পাশে পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা গভীর খননকাজ করছিলেন। সেই সময় পাশের একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর হঠাৎ ধসে পড়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পর শহরজুড়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরে চলমান ড্রেন নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শ্রমিকদের জন্য হেলমেটসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়েও পৌর কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিক ইসলাম পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

