আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) অভিযোগ করেছে, গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরাইল “অবৈধভাবে” সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থাটি সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৬ সালের ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর (Yohmor) শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী কামান থেকে ছোড়া সাদা ফসফরাস গোলা ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি সাতটি ছবি যাচাই ও জিওলোকেশন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে। এসব ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক এলাকায় আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে সাদা ফসফরাস ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় অন্তত দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং পরে সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।
সাদা ফসফরাস একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে ওঠে। এটি সাধারণত ধোঁয়ার পর্দা তৈরি করা বা যুদ্ধক্ষেত্র আলোকিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
তবে এই পদার্থটি আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। এর ফলে মারাত্মক দগ্ধ হওয়া, শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া এমনকি নি’\হত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল হিজবুল্লাহ (Hezbollah)-কে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত সপ্তাহ থেকে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দফায় হামলা চালানোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থলবাহিনীও মোতায়েন করেছে দেশটি। এর আগে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ভেতরে হামলা চালায়।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লিতানি নদী (Litani River)-এর দক্ষিণে বসবাসকারী মানুষদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই নদীটি ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯৪ জন নি’\হত হয়েছে এবং পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস (Ramzi Kaiss) বলেন, “আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর ফলে বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরাইলের উচিত অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা। আর যেসব দেশ ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে—যার মধ্যে সাদা ফসফরাস গোলাও রয়েছে—তাদের উচিত সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করা এবং আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা।”
সূত্র: এএফপি (AFP)


