দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, যাজক ও অন্যান্য সেবাকর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের ৬ হাজার ৪৩৮টি মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় কর্মরতদের জন্য এই ভাতা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
রোববার সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Religious Affairs)-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ (Md. Ismail Zabiullah) এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪,৯০৮টি মসজিদ নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে ৯৯০টি মন্দির, ৭২ উপজেলায় দুটি করে ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ১৯৮ উপজেলায় দুটি করে ৩৯৬টি গির্জাকে পাইলট স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, পাইলট পর্যায়ে মসজিদের ইমামকে মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমকে ২ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিতকে ৫ হাজার ও সেবাইতকে ৩ হাজার টাকা, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষকে ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষকে ৩ হাজার টাকা, গির্জার যাজককে ৫ হাজার ও সহকারী যাজককে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উৎসবকালেও ভাতা প্রদান করা হবে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।
চলতি অর্থবছরে এই সম্মানী প্রদানের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে সোনালী ব্যাংক (Sonali Bank)-এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হবে।
সরকার দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জা অন্তর্ভুক্ত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে বছরে প্রায় ৪,৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১,১০০ কোটি, ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ২,২০০ কোটি, ২০২৮–২৯ অর্থবছরে ৩,৩০০ কোটি এবং ২০২৯–৩০ অর্থবছরে ৪,৪০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।
স্থায়ীভাবে সম্মানি চালুর লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ধর্মীয় সেবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি উপাসনালয়ে কর্মরতদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
