হাড়িভাঙ্গা আমে মুকুলে ভরপুর, দ্বিগুণ ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

রংপুর অঞ্চলের হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান এবার মুকুলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুকুলের মাঝে গুটি ধরা দেখে চাষিরা আশাবাদী, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন হবে। কৃষি বিভাগও এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তবে কিছু চাষি অভিযোগ করছেন, কৃষি বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম ইতোমধ্যেই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ বেশি। আমের সিজনে এই এলাকায় ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেশি হয়।

বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করলে দেখা যায়, ছোট বড় প্রতিটি গাছে মুকুল পরিপূর্ণ। হাড়িভাঙ্গা আমের পাশাপাশি আম্রপালি, মিশ্রী ভোগ, গোপাল ভোগ, সূর্যপুরীসহ নানান প্রজাতির আমের গাছেও গুটিগুটি মুকুল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাষিরা খুশিমনে আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। অনেক গাছের ডাল মুকুলে এত ভারী হয়ে গেছে যে খুঁটি দিয়ে সমর্থন দিতে হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর জেলায় প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে।

বদরগঞ্জ উপজেলার ওসমানপুরের আলমগীর হোসেন বলেন, তার ৪ হেক্টর জমিতে মুকুল পরিপূর্ণ হয়েছে এবং গুটি ধরা শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্বিগুণ আম উৎপাদন সম্ভব, যা ২০ লাখ টাকার মুনাফা দেবে। লোহানিপাড়ার জাহিদুল হক ৬.৫ একর জমিতে মুকুলে পরিপূর্ণতা লক্ষ্য করেছেন এবং আশা করছেন ২৫-৩০ লাখ টাকার ইনকাম হবে। মিঠাপুকুরের আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন, তার প্রায় ৭,৫০০ আমগাছের মুকুল পরিপূর্ণ এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৫০ লাখ টাকারও বেশি আয় করা সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করলে এবছর আমের ফলন দ্বিগুণ হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন কৃষকের বাড়ি উঠোনসহ প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন ও মুনাফা পাবেন।