‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানী (Banani)-র কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় সরকার উপকারভোগী পরিবারগুলোকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। ফলে উপকারভোগীরা ঘরে বসেই সহজভাবে ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করা হয়েছে। এই সূচকের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়।

তথ্য যাচাইয়ের সময় ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি বা পেনশন প্রাপ্তি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষার স্তর, বাসস্থানের ধরন এবং পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্যের মধ্যে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংগৃহীত তথ্য প্রথমে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে উপজেলা কমিটি আরও বিশদভাবে যাচাই করে উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।