জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার বিতর্কের পর অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেলেন ইরানি নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় আসা ইরানি নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্যকে মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আশ্রয় পাওয়া ফুটবলাররা হলেন ফাতেমেহ পাসানদিহ, জাহরা ঘাঁবারি, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজান জাদেহ ও মোনা হামুদি। টুর্নামেন্ট চলাকালে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে আশ্রয়ের আবেদন করেন।

ঘটনার সূত্রপাত এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচ চলাকালীন। ইরানি নারী দলের খেলোয়াড়রা মাঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাদের তীব্র সমালোচনা করা হয়। এমনকি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই দেশে ফিরে গেলে সম্ভাব্য নির্যাতনের আশঙ্কা তৈরি হয় খেলোয়াড়দের মধ্যে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক (Tony Burke) সোমবার রাতে সরাসরি দেখা করেন ওই পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে এবং তাদের অস্থায়ী মানবিক ভিসার আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। মধ্যরাতেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরদিন ভোরে ব্রিসবেনের একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার পর পাঁচ ফুটবলার স্বতঃস্ফূর্তভাবে “অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া!” বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (Australian Federal Police) তাদের একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। একই সময় কুইন্সল্যান্ড পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে কুইন্সল্যান্ড এবং ফেডারেল পুলিশের কড়া পাহারায় ইরানি দলের বাকি সদস্যরা গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে রবিবার রাতে গোল্ড কোস্টের রবিনা স্টেডিয়াম (Robina Stadium) থেকে ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা ইরানি দলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মূলত তারা ইঙ্গিত দিতে চেয়েছিলেন—যদি দলের কোনো সদস্য সাহায্য চান, তাহলে অস্ট্রেলিয়া সরকার পাশে থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, ইরানি নারী ফুটবল দলের অন্য সদস্যদের জন্যও আশ্রয়ের দরজা খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই ক্রীড়াবিদদের জন্য এক কঠিন সময়ের অবসান ঘটেছে, যারা খেলার আগে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার ঘটনায় নিজেদের দেশে তীব্র সমালোচনা ও সম্ভাব্য শাস্তির মুখে পড়েছিলেন।

ইরানি দলের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের নীরবতার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ম্যাচে দলটি সম্মিলিতভাবে স্যালুট জানালেও বিতর্ক থামেনি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ফিলিপাইন (Philippines)-এর কাছে ২–০ গোলে পরাজয়ের পর পাঁচ ফুটবলার রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন।

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিতে মোট ২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন ইরানি নারী দলের কোচ মারজিয়া জাফারি (Marziyeh Jafari)। সেই দলের মধ্য থেকেই পাঁচজন খেলোয়াড় দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।