জামিন করাতে কোটি টাকা দাবি—অডিও ফাঁসের পর প্রসিকিউটরদের সতর্ক করলেন চিফ প্রসিকিউটর

সদ্য সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের সতর্ক করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam)। অভিযোগের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হবে।

এর আগে সোমবার প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার (Saimum Reza Talukder)-এর একটি অডিও ফাঁস হয়। সেই অডিওতে তিনি চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী (Fazle Karim Chowdhury)-কে খালাস পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি সংবাদটি প্রথমে বাসায় বসে দেখেন। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি সব প্রসিকিউটরকে সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন, যাতে ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়।

তিনি বলেন, “এ বিষয়টি কীভাবে ঘটল, কেন ঘটল—এসব বিষয় জানার জন্য আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি। যে প্রসিকিউটরের নাম এসেছে, তিনি সম্ভবত দুই বা তিন দিন আগে আমার কাছে একটি পদত্যাগপত্রও জমা দিয়েছেন।”

ফাঁস হওয়া অডিও ও এ সংক্রান্ত সংবাদে তিনি ব্যথিত বলে উল্লেখ করেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, যদি তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসে, তাহলে আইনের যে সীমার মধ্যে তার ক্ষমতা রয়েছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলেও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির মাধ্যমে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে।

আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রসিকিউটর বা সংশ্লিষ্ট কেউ যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে তার অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’।