ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে চাপ—ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জবাব চাইছে নিজ সমর্থকরাই

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাড়তে থাকায় যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। শুধু বিরোধী মহলই নয়, এবার ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থকদের মধ্য থেকেও যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনটাই জানিয়েছে আল জাজিরা (Al Jazeera)।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক প্যাটি কুলহেইন (Patty Culhane) জানান, মার্কিন প্রশাসন এখন পর্যন্ত আমেরিকান জনগণের কাছে এই যুদ্ধের পক্ষে শক্ত বা গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (Pete Hegseth) যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলেছেন, অতীতে ইরাক যুদ্ধে ইরানের তৈরি উন্নত বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই বিস্ফোরকের কারণে বহু মার্কিন সেনা আহত হয়েছিল, আর সেই কারণেই বর্তমান সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে এই ব্যাখ্যা মার্কিন জনগণের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি বলেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং প্রশ্ন উঠছে—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং এর শেষ কোথায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে সামরিক হামলা চালিয়েছে—সেসবের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে শুরু করেছে।

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ হওয়া সারের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জরিপ ও জনমত থেকে স্পষ্ট হচ্ছে—এই সামরিক অভিযানের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন তেমন নেই। ফলে যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও তত বাড়তে পারে।