যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া নিয়ে কিম ইয়ো জংয়ের কড়া হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন (Kim Jong Un)-এর বোন কিম ইয়ো জং (Kim Yo Jong)। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তার ‘পরিণতি হবে ভয়াবহ’।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা যখন অস্থিরতার মুখে, ঠিক সেই সময় এই সামরিক মহড়া চালিয়ে যাওয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) তাদের ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করেছে।

‘ফ্রিডম শিল্ড’ মূলত দুই দেশের অন্যতম প্রধান বার্ষিক কমান্ড পোস্ট মহড়া। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে পরিচালিত এই মহড়ায় সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে কিমের বোন বলেন, বাহ্যিক হুমকির মুখে দেশটি তার ‘ধ্বংসাত্মক শক্তি’ আরও বাড়াতে থাকবে। একই সঙ্গে শত্রুদের কাছে তাদের যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভয়াবহতা বারবার প্রমাণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়াকে সম্ভাব্য আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এমন খবর ছড়িয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তা দিতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কিছু প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এ নিয়ে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং (Lee Jae-myung) বলেন, আমাদের সরকার এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা জানিয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, আমরা সব পরিস্থিতি আমাদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েল (Israel) ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর হামলাকে ‘ভুয়া শান্তির অজুহাতে চালানো অবৈধ আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে।

ওয়াশিংটন ও সিউলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই কিম জং উন তার পররাষ্ট্রনীতিকে ধীরে ধীরে নতুন এক শীতল যুদ্ধের ধারণার ওপর দাঁড় করাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া (Russia) ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন এবং পিয়ংইয়ংকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এক যৌথ ফ্রন্টের অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার পর মস্কোকে সমর্থন দেওয়া কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও ইরানও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা রাশিয়াকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সৈন্যও রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে পাঠিয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে রাশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কিম জং উন চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি বেইজিং সফর করেন এবং ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সূত্র: এপি