জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষরের প্রতি বর্তমান সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি বলেন, এই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির দলিল।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (Jatiyatabadi Ainjobi Forum)-এর আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনি ইশতেহারে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল এবং জনগণ সেই ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই সরকার সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

তিনি বলেন, সরকার কেবল জুলাই জাতীয় সনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সব অঙ্গীকার পূরণে দায়বদ্ধ থাকবে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of Bangladesh)-এ সংবিধান সংস্কার ও গণভোট অধ্যাদেশ সংক্রান্ত রিট এবং রুল জারির প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে সমালোচনা না করে তিনি আইনের ভেতরে থেকেই আলোচনা করতে চান।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ ও গণরায় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এ সনদের প্রতি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্বাক্ষর করেছে।

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এখন এ সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের অনেকেই এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছিলেন। কেউ কেউ পরে পরিস্থিতি বুঝে সই করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হবে। সংসদে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেটিকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি জানান, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। সংসদই নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশ কীভাবে গৃহীত বা সংশোধিত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সার্বভৌম এবং সংসদ সদস্যরা সেই সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইনের ভিত্তিতে হওয়া গণভোটের মর্যাদা সাংবিধানিক ভোটের পরেই আসে। তাই সব ধরনের বিতর্কের সমাধান সংসদের ভেতরেই হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের মাঠে ভিন্ন মত ও সমালোচনা থাকবেই। এসব মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্যই সংগ্রাম হয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। তার মতে, সব ধরনের বিতর্ক ও আলোচনা জাতীয় সংসদের ভেতরেই হওয়া উচিত এবং আলোচনার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাংবিধানিক পথেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন (Zainul Abedin)-এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ফোরামের মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (Kaiser Kamal) এবং সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল (Badruddoza Badal)।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাধারণ সম্পাদক গাজী তৌহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।