সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে তারা দুটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকাই পালন করতে চায় তার দল।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)–এর এলডি হলে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের ভূমিকা মানেই অকারণ বিরোধিতা নয়। আবার না বুঝে সবকিছু সমর্থন করাও দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। তার ভাষায়, ‘সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবো। সবকিছুতে বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝে সমর্থনও নয়।’
তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। তবে সংসদে আলোচনার পথেই যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটি জাতির জন্য অধিক কল্যাণকর হবে। তার মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে আলোচনা, বিতর্ক এবং পারস্পরিক মতবিনিময়।
দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির দাবি করেন, বাংলাদেশ দুবার স্বাধীন হলেও সাধারণ মানুষ এখনো সেই স্বাধীনতার প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পায়নি। তিনি বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা দুটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা অঙ্গীকার অনুযায়ী দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকার এখনও শপথ নেয়নি।’
জুলাইয়ের ঘটনাকে সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সে সময়কার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় সেই আন্দোলনের শহীদদের আত্মদান অর্থহীন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের ঘটনাকে সম্মান জানিয়ে সরকারকে শপথ নিতে হবে। অন্যথায় জুলাই শহীদদের আত্মদান বৃথা হয়ে যাবে।’
সংসদ পরিচালনায় স্পিকারের ভূমিকার বিষয়েও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকার ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন এবং বিরোধী দলকে তাদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
একই সঙ্গে তিনি ‘জুলাই প্রস্তাব’ বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে এনে বলেন, এই প্রস্তাব আংশিকভাবে নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন দেখতে চায় বিরোধী দল। তার ভাষায়, ‘জুলাই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন পুরোপুরি চাই। সে পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের যেটুকু প্রাপ্য সেটুকু পেলেই চলবে। আমরা আংশিক নয়, পুরো প্যাকেজ চাই।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়েও বিরোধী দলের অবস্থান রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু না বলে সময়মতো জাতি তাদের অবস্থান দেখতে পাবে বলেও ইঙ্গিত দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
