ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হ’\ত্যা’\কা’\ণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা—এমন ইঙ্গিত মিলেছে গোয়েন্দা সূত্রে। ধৃতরা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছিল, সেই পথের খুঁটিনাটি এখন খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আটক দু’জন প্রথমে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সরাসরি চলে যায় গুয়াহাটিতে। সেখানে বেশিদিন থাকা নিরাপদ নয়—এমন আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যায়। এরপর তারা আশ্রয় নেয় শিলিগুড়িতে। কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা নতুন পথ বেছে নেয়।
গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, শিলিগুড়ি থেকে তারা কৃষ্ণনগর হয়ে শেষ পর্যন্ত বনগাঁ এলাকায় এসে পৌঁছায়। পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে সুযোগ বুঝে আবার সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, বনগাঁ পৌঁছানোর আগে বারাসাত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলেও কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছিল মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর। কারা সেই ব্যক্তিরা এবং কেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই অভিযানে আরও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, গত প্রায় আড়াই মাস ধরে ধৃতরা নিয়মিত তাদের ডেরা বদল করেছে। কখনো পরিচিতদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কখনো নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন হোটেলে থেকেছে। কোথায় কোথায় তারা অবস্থান করেছে, কারা তাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রে।
ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)-এর তদন্তকারী গোয়েন্দারা ধৃত দু’জনকে নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। তারা পশ্চিমবঙ্গে এসে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, সীমান্ত এলাকায় কারা তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিল—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসার এই পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটন করা গেলে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসতে পারে।


