ইরান যু’\দ্ধ ১৩ দিনে, নি’\হত ১৭০০ ছাড়ালেও থামার লক্ষণ নেই

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৩ দিনে গড়িয়েছে। চলমান এই যু’\দ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে নি’\হতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আ’\হত হয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, এখনো পর্যন্ত সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

যু’\দ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei) সহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নি’\হত হন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এই আঘাতের মাধ্যমে দ্রুত ইরানের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং সরকার পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা ছিল বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

কিন্তু যু’\দ্ধ শুরুর ১৩ দিন পরও ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়নি। এ কারণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যু’\দ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রবাহে অনেক সময় মনে হতে পারে এখানে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাতে কৌশলগতভাবে মূল ভূমিকা পালন করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যু’\দ্ধের লক্ষ্য কেবল আংশিক সাফল্য নয়; তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ বিজয় অর্জন করা। যদি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, তাহলে সেটিকে ইসরায়েলের জন্য যথেষ্ট সাফল্য হিসেবে দেখা হবে না।

গার্ডিয়ান আরও বলেছে, যু’\দ্ধ শুরুর সময় যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। পরিকল্পনার অংশ ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (Islamic Revolutionary Guard Corps – IRGC)-এর যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে টার্গেট করে হ’\ত্যা করা। উদ্দেশ্য ছিল, নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei)-কে বেছে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলেও দায়িত্ব নেওয়ার জন্য একাধিক বিকল্প নেতার নাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এই বাস্তবতায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের যু’\দ্ধ কৌশল ‘প্ল্যান বি’-তে নিয়ে গেছে। এই পরিকল্পনায় দুটি ভিন্ন কৌশলের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলটি হলো—কুর্দি বা বালুচদের মতো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বিদ্রোহকে শক্তিশালী করা, যাতে ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়ে।

তবে পরিকল্পনার দ্বিতীয় কৌশলটিকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি হলো শত্রু দেশের অভ্যন্তরে জনসমর্থনে ফাটল ধরানো। এই কৌশলকে ‘দাহিয়া নীতি’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নীতি অনুযায়ী, কোনো বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব না হলে বা কোনো রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বেসামরিক জনগণের ওপর ধারাবাহিক চাপ ও আঘাত হানার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ইরানের অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার মাধ্যমে এই কৌশল প্রয়োগ করছে।