সরকারবিরোধীদের ‘শত্রু’ হিসেবে দেখবে ইরান: ট্রিগারে আঙুল রাখার হুঁশিয়ারি পুলিশ প্রধানের

ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান (Ahmadreza Radan) জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের আর ‘প্রতিবাদকারী’ হিসেবে দেখা হবে না; তাদের সরাসরি ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের আঙুল ট্রিগারেই রাখা আছে।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য নতুন বিক্ষোভ বা সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক কয়েকজন নেতা। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) একাধিকবার ইরানের সাধারণ মানুষকে বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় ইরানের নাগরিকদের ‘আয়াতুল্লাহ জমানা’ থেকে মুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি লিখেন, “ইরানবাসী, আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছি। আয়াতুল্লাহ জমানাকে অপসারণ করার এমন সুযোগ আর আসবে না।”

একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, সঠিক সময় এলে ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব জনগণের হাতেই তুলে দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পাশাপাশি দেশের ভেতরেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ জমে আছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।

তখন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, সরকার কঠোরভাবে সেই বিক্ষোভ দমন করেছে। ওই সময়ের দমন-পীড়নে শতাধিক প্রতিবাদকারী নি’\হত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে আবারও যদি বিক্ষোভ দেখা দেয়, তবে তা মোকাবিলায় ইরান কঠোর নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করতে পারে—এমন আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে।